বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০০৯

ছবিতে শিল্পী মৃণাল হকের ম্যুরাল "ইস্পাতের কান্না"

.


শিল্পী মৃণাল হকের ইস্পাতের কান্না শিরোনামের এই বিখ্যাত এই ম্যুরালটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত। এখানে আমাদের ৫২-র ভাষা আন্দেলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়কার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। সম্পূর্ণ ম্যুরালটি ইস্পাতে নির্মিত।

স্থান স্বল্পতা আর আমার ছবি তোলার অদক্ষতার কারণে সম্পূর্ণ মূরালটির ছবি এক ফ্রেমে বন্দী করতে পারলাম না। কিন্তু আপনাদের সাথে শেয়ারের ইচ্ছে কিছুতেই সংবরণ করতে না পেরে কয়েক খণ্ডে এখানে দিলাম। প্রত্যাশা করি আপনাদের ভাল লাগবে।


খণ্ড-১ (ক্রমঃ বাম থেকে শুরু করে ডান দিকে)


খণ্ড-২


খণ্ড-৩


খণ্ড-৪


খণ্ড-৫


খণ্ড-৬
.

সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০০৯

এই লাইনেও (দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও) ট্রেন চলে!

.


ছবির রেল লাইনটি পরিত্যাক্ত মনে হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু এই লাইনেও প্রতি দিন দুটি করে ট্রেন যাওয়া আসা (পার্বতীপুর-ঠাকুরগাঁও) করে যার একটি মেইল অন্যটি লোকাল। পার্বতীপুর থেকে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও হয়ে পঞ্চগড় পর্যন্ত বিস্তৃত এই রেললাইনের পীরগঞ্জ এলাকা থেকে ছবিটি তোলা হলেও দিনাজপুর থেকে ঠাকুরগাঁও পর্যন্ত পুরো লাইনেরই এরকম বা এর চেয়ে বেশী খারাপ অবস্থা। আর তাই শুষ্ক মৌশুমে যদিও বা কোন মতে ট্রেন দুটি আসা যাওয়া করে কিন্তু প্রতি বর্ষায় একাধিক বার কোন না ট্রেন লাইনচ্যূত হয়। তাই-ই স্বাভাবিক নয় কি?

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকার সাথে সরাসরি ইন্টারসিটি ট্রেন যোগাযোগ চালু হযেছে। যেমন দিনাজপুর-ঢাকা, নীলফামারী-ঢাকা, লালমনিরহাট-ঢাকা ইত্যাদি। তেমনই এই রেললাইটির দিনাজপুর থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত সংস্কার করে পঞ্চগড়-ঢাকা ট্রেন যোগাযোগ সহজেই চালু করা সম্ভব। কিন্তু যারা এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার তাদের কি বিষয়টি ভেবে দেখার সময় আছে?


.

রবিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০০৯

বাঁচাতে এগিয়ে আসুন এবং একটি প্রস্তাবনা

.
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুটি পোষ্টার অন্যদের মতো আমারও বিশেষভাবে দৃষ্টি কেড়েছে। দুটিই চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনে অপারগ দুজন শিক্ষার্থীর জন্য সাহয্যের আবেদন সম্বলিত। এরকম আবেদন যেমন আমাদের সমাজে নতুন কিছু নয় তেমনি রাবিতেও নতুন কিছু নয়। কিন্তু আমার প্রস্তবনাটি নতুন। এবং কিভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায় তাই এই লেখার মূল বিষয়। তার আগে স্বল্পপরিসরে জেনে নেই সেই পোষ্টারদ্বয়ে কী বলা হয়েছে।

ক.
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবদ্যা বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী লতা জিবিএস রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে ঢাকা সিটি হসিপটালে চিকিৎসাধীন। তার চিকিৎসার জন্য ৯-১০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন যা তার পরিবারের পক্ষে ব্যয় করা সম্ভব নয। তাই তার পরিবার দেশের সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাহায্যের আবেদন করেছেন। সাহায্য পাঠানোর জন্য যোগাযোগ করুন পিতাঃ মোঃ লুৎফর রহমান, মোবাইলঃ +৮৮ ০১৭২৩ ৬১৮৫২৩।
খ.
শাশ্বতকে বাঁচাই/মৃত্যুর অপচয় থামাই। সত্য'র পাশে না-দাঁড়ালে যে মনুষ্যত্বের অপমান হবে! পৃথিবীতে মানবিকতার যে শাশ্বত সত্য প্রবাহমান, তারই মৃত্য ঘটে যাবে! তাই শাশ্বত সত্য'র পাশে দাঁড়াবোই। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীদের শাশ্বত চিকিৎসা-সহয়তা উদ্যোগে আপনাকেও ডাক দিয়ে যাই...। যোগাযোগঃ শাশ্বত চিকিৎসা-সহয়তা কমিটি, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, রাবি। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা- 'শাশ্বত চিকিৎসা-সহায়তা', সঞ্চয়ী হিসাব নং-৩৪২৬০৪৯৮, অগ্রণী ব্যাংক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, রাজশাহী বা "Shaswata Chikitsa Sohayata", Savings Account No. 135-101-33705, Dutch-Bangla Bank Limited, Bangladesh ।

সেই পোষ্টার দুটির আবেদন আমি আর একবার এই ব্লগের মাধ্যমে দেশ এবং দেশের বাইরের সকলের কাছে পৌঁছে দিলাম। আপনারা আপনাদের সাধ্যমত সহযোগিতা করবেন এই প্রত্যাশা করি।

অনেকেই হয়তো বলবেন এভাবে আর কতই বা সাহায্য করা যায়! কিন্তু এই পোষ্টারে লতা বা শাশ্বতর নামের জায়গায় নিজের নামটি কল্পনা করতেও গাঁ কাটা দিয়ে ওঠে। সেই থেকে আমার এই ভাবনাটির শুরু আর তা হচ্ছে এজাতীয় দূরারোগ্য চিকিৎসার ব্যয় একটি ফান্ডের মাধ্যমে সংগ্রহ ও খরচ করা যায় কিনা যা রাবি প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত হবে। যেমন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। প্রত্যেকে প্রতি বর্ষে ভর্তির সময় ১২০ টাকা (প্রতি মাসে ১০ টাকা করে ধরে) করে এই তহবিলে জমা দিলে বছরে জমা পড়বে ৩০ লক্ষ টাকা অথবা ২৪০ টাকা (প্রতি মাসে ২০ টাকা করে ধরে) করে দিলে বছরে জমা পড়বে ৬০ লক্ষ টাকা। প্রতি মাসে আমরা কত টাকাই না কত দিকে খরচ করি। এই সামাস্য ১০/২০ টাকা এই তহবিলে বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হলে তা শিক্ষার্থীদের উপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপের সৃষ্টি হবে বলে আমার মনে হয় না। কিন্তু এর বিনিময়ে লতা বা শাশ্বতর মতো আপনার সহপাঠী পেতে পারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা। তাই আসুন শাশ্বতর পোষ্টার থেকে আবারও বলি "সত্য'র পাশে না-দাঁড়ালে যে মনুষ্যত্বের অপমান হবে! পৃথিবীতে মানবিকতার যে শাশ্বত সত্য প্রবাহমান, তারই মৃত্য ঘটে যাবে"!




.

শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০০৯

মৃত প্রাণী ব্যবহার করে মাছ শিকারঃ মৎস্য বৈচিত্র্যের জন্য একটি বড় হুমকি

.

চিত্রঃ মৃত প্রাণী ব্যবহার করে মাছ শিকারের একটি টোপ।

রাজশাহীর পদ্মা নদীতে মৃত প্রাণী ব্যবহার করে মাছ শিকারের বিষয়টি প্রথম আমি জানতে পারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে। তার পর নিজে চোখে বিষয়টি দেখার জন্য রাজশাহী সিটি কর্পেরশন এলাকা সংলগ্ন পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে গেলে যে চিত্র দেখতে পাই তা মৎস্য বৈচিত্র্যের জন্য একটি বড় হুমকি।

এই পদ্ধতিতে মাছ শিকারে মৃত প্রাণীকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেই মৃত প্রাণীর তালিকায় হাঁস হতে শুরু করে গরুর নামও রয়েছে। নদীর কোন একটি স্থানে বৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকারে বাঁশ ও গাছের ডাল-পালা ব্যবহার করে একটা ছোট আকারের সীমানা নির্ধারণ করা হয়। তারপর তার মাঝে মৃত ছাগল বা গরু একটি বাঁশ বা ভারী পাথর/বালুর বস্তা ইত্যাদির মাধ্যমে তলদেশের কাছাকাছি স্তরে বেঁধে রাখা হয়। এর এক থেকে দুই সপ্তাহ পর পুরো স্থানটি জাল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় এবং বাঁশ/ডাল-পালা/মৃত প্রাণী সরিয়ে জাল টেনে তুললে একসাথে অনেক মাছ পাওয়া যায়। সেই মাছের তালিকায় রয়েছে মূলত মাংশাসী মাছ যেমন- টেংরা, আঁইড়, গজার, বোয়াল, দেশী পাংগাস ইত্যাদি। এর মধ্যে টেংরা ছাড়া আর সবই বিলুপ্তির হুমকির মূখে অবস্থান করা দেশীয় বড় মাছ যার বেশিরভাগই প্রজননে উপযুক্ত মা/বাবা মাছ। ফলে মাছ ধরার অন্যান্য পদ্ধতিকে এড়িয়ে সেই সব প্রজাতির মাছ যে দু-চারটি বেঁচে থাকতো তারাই পরবর্তী প্রজন্ম তৈরি করে যেত। এমন একটা সময়ে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সেই অবশিষ্ট মাছও (যাদের বেশীর ভাগই প্রাপ্তবয়স্ক) যদি আমরা ধরে ফেলি তাহলে সেই প্রজাতির মাছের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তা ভয়ঙ্কর হুমকি বইকি।

একবার টোপ হিসেবে একটি মৃত প্রাণী ব্যবহার করার পর যতদিন না সেই প্রাণী শেষ হয় ততদিন পর্যন্ত প্রতি ১-২ সপ্তাহ অন্তর অন্তর জাল দিয়ে ঘিরে ফেলে মাছ ধরা যায়। খরচ কমানোর জন্য মূলত মৃত প্রাণী ব্যবহার করা হয। প্রাণী হিসেবে কী ব্যবহার করা হবে তা নির্ভর করে এর ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িতদের অর্থনৈতিক সামর্থের উপর। জানা যায় রাজশাহী সিটি কর্পেরশন এলাকা সংলগ্ন পদ্মা নদীতে এরকম বড় আকারের টোপের সংখ্যা ৩৮টি।

এই চিত্র থেকে স্পষ্ট ভাবে বলা যায় এই পদ্ধতিতে মাছ শিকার করা যেমন মৎস্যবৈচিত্র্য তেমনি মৎস্যসম্পদের ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় হুমকি। তাই যত দ্রুত সম্ভব মাছ শিকারের এই ভয়ঙ্কর পদ্ধতিটি এখনই বন্ধ করা প্রয়োজন।
.

শুক্রবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০০৯

কতিপয় ভাবনাঃ প্রেক্ষাপট শহীদমিনার বা স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ

.


প্রথমেই বলে নেই বিষয়টি অনেক পুরানো কিন্তু বেদনাদায়ক। আজ থেকে তেইশ বছর আগে প্রথম যে বার একুশে ফেব্রুয়ারীতে শহীদমিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণে যাই সেই থেকে বিষয়টি আমাকে ব্যথিত করে। অনেক সময় এসব বিষয় আমাকে শহীদমিনারে যেতে নিরুৎসাহীতও করেছে। তারপরও প্রাণের টানে সবকিছু তুচ্ছ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদমিনারে গিয়েছি এবং বার বারই কম-বেশি ব্যথিত হতে হয়েছে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে এর বড় ধরনের কোন পরির্বতন দেখেছি বলে মনে পড়ে না। কিন্তু এক্ষেত্রে আমার করণীয় কি তাও ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা। তাই এই লেখার অবতারনা। কারণ এভাবে সচেতনা বাড়ানোর মাধ্যেমে যদি কিছু হয়। শুরুতেই স্বীকার করে নিয়েছি বিষয়টি পুরানো এবং এর প্রেক্ষিতে আমার প্রস্তাবনাগুলোও একবারে নতুন কিছু নয়। কিন্তু যারা এর বাস্তবায়ন করতে পারেন তাদের কাছে তা পৌঁছানোর পথটি আমার অজানা (আপনার জানা থাকলে বা কোন চিন্তা-ভাবনা থাকলে মন্তব্যে জানাবেন প্লিজ)। সেই বেদনাদায়ক বিষয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-

১। নিজেদের শ্রদ্ধাঞ্জলীকে সবচেয়ে উপরে স্থান দেয়ার জন্য শহীদমিনারের মূল বেদীর উপর উঠে পড়া। উপরের ছবিটি খেয়াল করুন এখানে নিজেদের শ্রদ্ধাঞ্জলীকে সবচেয়ে উপরে স্থান দেয়ার জন্য শহীদমিনার ছাড়িয়েও তা গাছের ডালে স্থান পেয়েছে। ছবিটি এই ১৬ই ডিসেম্বরে রাজশাহী কলেজ শহীদমিনারের। এটি একটি উদাহরণ মাত্র। কিন্তু এরকম অবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। ছবিতে দেখতে খারাপ না লাগলেও এটি করতে যেয়ে শহীদমিনারের বেদীতে যেভাবে উঠে পড়া হয় তাতো শুধু দৃষ্টিকটুই নয় বরং শহীদমিনারের প্রতি তা অসম্মানের।

২। ছবি তোলার জন্য চিত্রগ্রাহকদের মূল বেদীর উপর উঠে পড়া।

৩। জুতা/সেণ্ডেল হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে জুতা/সেণ্ডেল হাতে নিয়ে শহীদমিনারের মঞ্চে উঠে পড়া।

৪। মূল বেদীর সন্নিকটে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন ও বক্তব্য রাখার জন্য প্রতিটি দলের দীর্ঘ সময় বেদী সংলগ্ন মঞ্চে অবস্থান করার প্রেক্ষিতে প্রভাতফেরীতে আসা পরবর্তি দলগুলোরকে দীর্ঘসময় অপেক্ষায় থাকতে হয় যা জটের সৃষ্টি করে।

৫। শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ সমাপ্তির পর সেই শ্রদ্ধাঞ্জীর ফুলগুলো অযন্তে অবহেলায় পরে থাকে। আবার কখনও কাখনও শিশু-কিশোরদের দ্বারা সেগুলো চুরি বা ছোড়া-ছুড়ি করার মতো বিষয়ও চোখে পড়ে।

যারা ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদমিনারে বা স্মৃতিসৌধে যান তাদের জন্য এই বিষয়গুলো অচেনা মনে হলেও এর বাইরে আমার দেখা চিত্রগুলো এরকমই। এবং আমি মনে করি বিষয়গুলো শহীদমিনারের প্রতি অসম্মানেরই নামান্তর। তাই শহীদমিনার বা স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণকে একটা অনুষ্ঠান কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা প্রয়োজন। কিন্তু কিভাবে? আমার প্রস্তাবনাগুলো হচ্ছে-

ক। প্রতিটি শহীদমিনার বা স্মৃতিস্তম্ভে বিশেষ এই দিনগুলোতে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ অনুষ্ঠান পরিচালনা কমিটি করা যেতে পারে যাতে করে তারা একদল স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় সম্পুর্ন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করতে পারেন। স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় শৃংঙ্খলা/নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করবেন।

খ। শহীদমিনারের বা স্মৃতিস্তম্ভের মুল বেদী পর্যন্ত উঠে না যেয়ে এর পাদদেশে অর্থাৎ প্রথম সিঁড়ি যেখান থেকে শুরু সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করার ব্যবস্থা নেয়া। স্বেচ্ছাসেবীরা সেখান থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলীর ফুল সংগ্রহ করে শহীদমিনার বা স্মৃতিস্তম্ভটির মূলবেদী ও মঞ্চটি সাজিয়ে তুলবেন এবং প্রয়োজনীয় পাহারা দিবেন। এতে করে প্রথম তিনটি বিষয়ের সমাধান হবে।

গ। শহীদমিনার বা স্মৃতিস্তম্ভের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন ও বক্তব্য রাখার পরিবর্তে শহীদমিনার বা স্মৃতস্তম্ভের চত্বরের একপাশে এর জন্য নির্ধারিত একটি স্থানে তা পালন করার ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে করে চার নম্বর বিষয়ের সমাধান হবে।

ঘ। শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সেই ফুলগুলো সংগ্রহ করে জৈবসার তৈরির ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে যা পররর্তিতে ঐ শহীদমিনার বা স্মৃতস্তম্ভ চত্বরের ফুলবাগানের চাষে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে করে পাঁচ নম্বর বিষয়ের সমাধান হবে।

সুপ্রিয় ব্লগার এবিষয়ে আপনার কোন অভিজ্ঞতা ও প্রস্তাবনা থাকলে তা অনুগ্রহকরে এখানে জানান। এই ১৬ই ডিসেম্বর চলে গেছে কিন্তু সামনে আসছে একুশে ফেব্রুয়ারী। তাই এই সব প্রস্তাবনা কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তা জানান। যেমন সবগুলো প্রস্তাবনা একত্রিত করে প্রত্যেকের নামসহ সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রতিটি জেলা/উপজেলা প্রশাসন, মন্ত্রনালয় প্রভৃতি কার্যালয়ে এসব বিষয়াবলী কার্যকর করার অনুরোধ জানিয়ে স্মারকলিপি বা খোলাচিঠি পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় কিনা তাও জানাতে পারেন এখানে। সবার সক্রিয় অংশ গ্রহণ প্রত্যাশা করছি।
.

মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০০৯

রাজশাহীর গোদাগারী এলাকার পদ্মা নদীর থেকে উদ্ধারকরা বিলুপ্তপ্রায় ঘড়িয়ালের একটি বাচ্চা এখন রাজশাহী চিড়িয়াখানায়


ছবির উৎস্যঃ উইকিপিডিয়া

বাংলাদেশের চরমবিপদাপন্ন প্রাণীর তালিকার প্রথমদিকে অবস্থান করা ঘড়িয়ালের একটি বাচ্চা রাজশাহীর গোদাগারী এলাকার পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করার পর বর্তমানে রাজশাহী চিড়িয়াখানায় সংরক্ষিত আছে। এই খবরটি টেলিফোনে প্রথম পাওয়ার পর আমি সত্যিই খুউব অবাক হয়েছি। কারণ আমার জানা মতে এর আগে ২০০৪ সালে এরকম একটি শিশু ঘড়িয়াল পদ্মা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর এসম্পর্কিত আর কোন তথ্য পাওয়া যায় নি। দি ডেইলি স্টারে প্রকাশিত খবর থেকে আরও জানা যায় উদ্ধার করা ঘড়িয়ালটি লম্বায় মাত্র আড়াই ফুট এবং বয়স এক মাসেরও কম। এ থেকে সহজেই ধারনা করা যায় রাজশাহীর গোদাগারীর এলাকার পদ্মা নদীতে মা-বাবা ঘড়িয়ালের অন্তঃত একটি জুটি এখনও শত প্রতিকূলতার মাঝেও বেঁচে আছে এবং তারা প্রজননে অংশ নিতে পারছে। প্রকৃতিকভাবে সফল প্রজননের পর প্রাপ্ত ডিম ফুটে বাচ্চা উৎপন্ন হওয়ার মতো পরিবেশ স্বল্প পরিসরেও হলেও এখনও এখানে রয়েছে। বিষয়টি প্রাণী প্রেমীদের জন্য একটি আশাব্যঞ্জক খবর।

উইকিপিডিয়া থেকে আরও জানা যায় ঘড়িয়ালের নামের অর্থ: নাক (তুণ্ড)-এর ডগায় ঘড়ার মত আকৃতি, যা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ঘড়িয়ালের ক্ষেত্রে বেশ বড় হয়ে থাকে। আমাদের পদ্মা নদীতে বসবাসকারী ঘড়িয়ালের বৈজ্ঞানিক নাম Gavialis gangeticus আর ইংরেজী নাম Indian gharial বা Fish-eating Crocodile বা Gavial । কুমিরাকৃতির এই প্রাণীর তুণ্ড কুমির তুণ্ডের চেয়ে অনেক সরু এবং মাছ ধরার উপযোগী। এ কারনেই ছোটরা জলজ পোকা-মাকড় ও এর লার্ভা খেয়ে থাকলেও প্রাপ্তবয়ষ্করা মৎস্যভূক হয়ে থাকে। মূলত মৎস্যভূখ হওয়ায় এরা মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবুও জেলেদের জালে ধরা পরার পর এদের খুব কম সংখ্যকই বেঁচে থাকার সুযোগ পায়। অসচেতনার কারণের আতঙ্কিত জেলেরা এদের ক্ষতিকর মনে করে পিটিয়ে আহত করে এবং মেরে ফেলে।

যেহেতু রাজশাহীর গোদাগারী এলাকায় এখনও ঘড়িয়াল ধরা পরার খবর পাওয়া যায় তাই বিশেষত এই এলাকার জেলে ও অন্যান্য জনসাধারনের মাঝে সচেতনতা বাড়ানো এবং একই সাথে এখানে ঘড়িয়ালের একটি অভয়াশ্রম তৈরি করতে পারলে তা হতে পারে এদেরকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার একটি সময় উপযোগী প্রয়াস। এছাড়াও সংরক্ষিত অবস্থায় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় প্রজননের ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরর্তিতে উৎপন্ন বাচ্চাদের প্রকৃতিতে ছাড়ার ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। যে শিশু ঘড়িয়ালটি বর্তমানে রাজশাহী চিড়িয়াখানায় আশ্রয় পেয়েছে সেটি পুরুষ না স্ত্রী তা জানা সম্ভব হয়নি। এজন্য প্রায় এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। প্রাপ্ত ঘড়িয়ালটি যদি পুরুষ হয় তাহলে তা হবে এ জাতীয় কার্যক্রমের জন্য একটি সুসংবাদ। কারণ রাজশাহী চিড়িয়াখানায় বর্তমানে দুটি প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী ঘড়িয়াল সংরক্ষিত আছে।

- ঘড়িয়ালের আরও ছবি দেখুন এখানে - ঘড়িয়াল সম্পর্কে আরও জানুন এখান থেকে -
.

শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০০৯

আমাদের সামূদ্রিক জেলেদের জীবন কি এতই মূল্যহীন!

.
কিছুক্ষণ আগে মোবাইল ফোনের ষ্টপওয়াচের সফল ব্যবহার করলাম। এক... দুই... করে ৪৭.৯২ সেকেন্ড পর নিজেকে হার মানতে হলো। এবং মেনে নিতে হলো আমার দম খুব কম। এই অল্প সময়েই আমার বুকের মধ্যে এক ধরণের চাপ বোধ করলাম, একই সাথে অস্থিরতা। আমি স্বেচ্ছায় আটকে রাখা আমার নাখ-মুখ খুলে নিঃশ্বাস নিলাম এবং অনুভব করলাম কত দিন এমনটি নেই নি। এরপর চোখ বন্ধ করে ডুবে গেলাম কল্পনার জগতে....

অন্যদের সাথে আমাকেও প্রহার করে দূর্বল করে ফেলে রাখা হয়েছে নৌকার পাটাতনে। দ্রুত হাত-পা বেঁধে ফেলছে হিংস্র দানবরূপী জলদস্যুদের কয়েকজন। তখনও ক্ষীণ আশা ওরা মাছ, জাল, মেশিন লুট করলেও আমাদের সমূদ্রে ফেলে দেবে না। এমন সময়ই চোখে পড়লো ওরা হাত-পা বাঁধা একজনকে ফেলে দিল পানিতে। আমি ভয়ে কুঁকড়ে উঠলাম। কুরবানীর জন্য অপেক্ষমান পশুরা যেমন করে চেয়ে চেয়ে দেখে পূর্ববর্তী কুরবানীর পশুর পরিনতি আমার অবস্থাও তেমনই আসহায়। চোখের সামনে ভেসে ওঠে ফেলে আসা প্রিয়জনের অশ্রুসজল চোখ, অস্পষ্ট মুখগুলো। এরপর আর কিছুই ভাবতে পরিনা একসময় তলিয়ে যেতে থাকি জলের অতলে। নিঃশ্বাস নিতে না পারায় বুকটা চাপ ধরে যায়... সাথে প্রচণ্ড যন্ত্রণা... বাতাসের ফুসফুসে ঢুকে যায় লোনা জল....

না! আর ভাবতে পারছি না। অথচ কয়েকদিন আগের প্রথম আলোতে এরকমই একটা খবর এসেছে। জলদস্যুরা মাছ, জাল, মেশিনপত্র লুট করেই ক্ষান্ত হয় নি হাত পা বেঁধে জেলেদের ফেলে দিয়েছে সমূদ্রে। এমন খবর এই প্রথম নয়। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই পত্রিকায় আসে। আমার অনুমান এ জাতীয় সব খবর আসে না পত্রিকার পাতায়। তাই ধারণা করা যায় এমন দূঃসহ ঘটনা প্রতি দিনই ঘটছে। পত্রিকাতেও আসছে কিছু কিছু। কিন্তু এসবের কি কোন প্রতিকার নেই? এমনিতেই প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের জেলেরা সমূদ্রে মাছ শিকারে যায়। তার উপর এই জলদস্যুদের বর্বরতা কি দিনের পর দিন মেনে নেয়া যায়? এই হিংস্র পশুদের প্রতিরোধের ক্ষমতা কি দেশের প্রতিরক্ষার দ্বায়িত্ব যাদের উপর ন্যস্ত তাদের নেই? আমাদের সামূদ্রিক জেলেদের জীবন কি এতই মূল্যহীন!
.