.

প্রথমেই বলে নেই বিষয়টি অনেক পুরানো কিন্তু বেদনাদায়ক। আজ থেকে তেইশ বছর আগে প্রথম যে বার একুশে ফেব্রুয়ারীতে শহীদমিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণে যাই সেই থেকে বিষয়টি আমাকে ব্যথিত করে। অনেক সময় এসব বিষয় আমাকে শহীদমিনারে যেতে নিরুৎসাহীতও করেছে। তারপরও প্রাণের টানে সবকিছু তুচ্ছ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদমিনারে গিয়েছি এবং বার বারই কম-বেশি ব্যথিত হতে হয়েছে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে এর বড় ধরনের কোন পরির্বতন দেখেছি বলে মনে পড়ে না। কিন্তু এক্ষেত্রে আমার করণীয় কি তাও ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা। তাই এই লেখার অবতারনা। কারণ এভাবে সচেতনা বাড়ানোর মাধ্যেমে যদি কিছু হয়। শুরুতেই স্বীকার করে নিয়েছি বিষয়টি পুরানো এবং এর প্রেক্ষিতে আমার প্রস্তাবনাগুলোও একবারে নতুন কিছু নয়। কিন্তু যারা এর বাস্তবায়ন করতে পারেন তাদের কাছে তা পৌঁছানোর পথটি আমার অজানা (আপনার জানা থাকলে বা কোন চিন্তা-ভাবনা থাকলে মন্তব্যে জানাবেন প্লিজ)। সেই বেদনাদায়ক বিষয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-
১। নিজেদের শ্রদ্ধাঞ্জলীকে সবচেয়ে উপরে স্থান দেয়ার জন্য শহীদমিনারের মূল বেদীর উপর উঠে পড়া। উপরের ছবিটি খেয়াল করুন এখানে নিজেদের শ্রদ্ধাঞ্জলীকে সবচেয়ে উপরে স্থান দেয়ার জন্য শহীদমিনার ছাড়িয়েও তা গাছের ডালে স্থান পেয়েছে। ছবিটি এই ১৬ই ডিসেম্বরে রাজশাহী কলেজ শহীদমিনারের। এটি একটি উদাহরণ মাত্র। কিন্তু এরকম অবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। ছবিতে দেখতে খারাপ না লাগলেও এটি করতে যেয়ে শহীদমিনারের বেদীতে যেভাবে উঠে পড়া হয় তাতো শুধু দৃষ্টিকটুই নয় বরং শহীদমিনারের প্রতি তা অসম্মানের।
২। ছবি তোলার জন্য চিত্রগ্রাহকদের মূল বেদীর উপর উঠে পড়া।
৩। জুতা/সেণ্ডেল হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে জুতা/সেণ্ডেল হাতে নিয়ে শহীদমিনারের মঞ্চে উঠে পড়া।
৪। মূল বেদীর সন্নিকটে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন ও বক্তব্য রাখার জন্য প্রতিটি দলের দীর্ঘ সময় বেদী সংলগ্ন মঞ্চে অবস্থান করার প্রেক্ষিতে প্রভাতফেরীতে আসা পরবর্তি দলগুলোরকে দীর্ঘসময় অপেক্ষায় থাকতে হয় যা জটের সৃষ্টি করে।
৫। শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ সমাপ্তির পর সেই শ্রদ্ধাঞ্জীর ফুলগুলো অযন্তে অবহেলায় পরে থাকে। আবার কখনও কাখনও শিশু-কিশোরদের দ্বারা সেগুলো চুরি বা ছোড়া-ছুড়ি করার মতো বিষয়ও চোখে পড়ে।
যারা ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদমিনারে বা স্মৃতিসৌধে যান তাদের জন্য এই বিষয়গুলো অচেনা মনে হলেও এর বাইরে আমার দেখা চিত্রগুলো এরকমই। এবং আমি মনে করি বিষয়গুলো শহীদমিনারের প্রতি অসম্মানেরই নামান্তর। তাই শহীদমিনার বা স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণকে একটা অনুষ্ঠান কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা প্রয়োজন। কিন্তু কিভাবে? আমার প্রস্তাবনাগুলো হচ্ছে-
ক। প্রতিটি শহীদমিনার বা স্মৃতিস্তম্ভে বিশেষ এই দিনগুলোতে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ অনুষ্ঠান পরিচালনা কমিটি করা যেতে পারে যাতে করে তারা একদল স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় সম্পুর্ন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করতে পারেন। স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় শৃংঙ্খলা/নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করবেন।
খ। শহীদমিনারের বা স্মৃতিস্তম্ভের মুল বেদী পর্যন্ত উঠে না যেয়ে এর পাদদেশে অর্থাৎ প্রথম সিঁড়ি যেখান থেকে শুরু সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করার ব্যবস্থা নেয়া। স্বেচ্ছাসেবীরা সেখান থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলীর ফুল সংগ্রহ করে শহীদমিনার বা স্মৃতিস্তম্ভটির মূলবেদী ও মঞ্চটি সাজিয়ে তুলবেন এবং প্রয়োজনীয় পাহারা দিবেন। এতে করে প্রথম তিনটি বিষয়ের সমাধান হবে।
গ। শহীদমিনার বা স্মৃতিস্তম্ভের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন ও বক্তব্য রাখার পরিবর্তে শহীদমিনার বা স্মৃতস্তম্ভের চত্বরের একপাশে এর জন্য নির্ধারিত একটি স্থানে তা পালন করার ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে করে চার নম্বর বিষয়ের সমাধান হবে।
ঘ। শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সেই ফুলগুলো সংগ্রহ করে জৈবসার তৈরির ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে যা পররর্তিতে ঐ শহীদমিনার বা স্মৃতস্তম্ভ চত্বরের ফুলবাগানের চাষে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে করে পাঁচ নম্বর বিষয়ের সমাধান হবে।
সুপ্রিয় ব্লগার এবিষয়ে আপনার কোন অভিজ্ঞতা ও প্রস্তাবনা থাকলে তা অনুগ্রহকরে এখানে জানান। এই ১৬ই ডিসেম্বর চলে গেছে কিন্তু সামনে আসছে একুশে ফেব্রুয়ারী। তাই এই সব প্রস্তাবনা কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তা জানান। যেমন সবগুলো প্রস্তাবনা একত্রিত করে প্রত্যেকের নামসহ সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রতিটি জেলা/উপজেলা প্রশাসন, মন্ত্রনালয় প্রভৃতি কার্যালয়ে এসব বিষয়াবলী কার্যকর করার অনুরোধ জানিয়ে স্মারকলিপি বা খোলাচিঠি পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় কিনা তাও জানাতে পারেন এখানে। সবার সক্রিয় অংশ গ্রহণ প্রত্যাশা করছি।
.